স্বামী হলো ছেলে আর শ্বশুর হলো ভাতার – পর্ব ৭


mrupa9191 2019-03-08 Comments

এবার রুবি বললো আজ বিকেল ৫ টার সময় চলে আসবি বৌকে নিয়ে আমি একটা ডিসিশন দেব সেটা সবাই মানবে তাহলে দেখবি সবাই সুখে থাকবে। এরপরে বাবা চলে গেলেন।

এবার রুবি আমাকে ডেকে বললো যা ফ্রেশ হয়ে নে তোর পরে আমি যাবো। আমি বিছানা থেকে নেমে বাথরুমে গিয়ে দেখলাম এখনো একটা অন্য রকম গন্ধ। যাই হোক আমি পটি করে চান করে নিলাম।

তারপরে রেডি হয়ে ব্রেকফাস্ট করে বেরিয়ে গেলাম। সারাদিন বাবা আর রুবির কথা ভাবতে ভাবতে অফিসে বসে কাজ করতে লাগলাম। কাজে মন বসাতে পারছিলাম না। দেখতে দেখতে ৪.৩০ টা বেজে গেলো আমি অফিস থেকে বেরিয়ে সোজা রুবির ফ্ল্যাটে গেলাম। গিয়ে দেখলাম ওখানকার কেয়ার টেকার মিটিংয়ের জন্যে হল টা রেডি করে রেখেছে।

১০-১২ টা চেয়ার পাতা আছে। একটা চেয়ার স্পেশাল। বুঝলাম ওই চেয়ারে রুবি বসবে কারণ মিটিং ওই ডেকেছে। আমি একটা সিগারেট ধরিয়ে ওয়েট করতে লাগলাম। ঠিক ৫ টার একটু আগে সবাই পৌঁছে গেলো।

রুবি এলো ৫.০৫ এ। সবাই গিয়ে চেয়ার এ বসলো আমিও একটা জায়গায় বসলাম। রুবি এলো সবার শেষে। রুবি নিজের জায়গায় বসে সবাইকে ধন্যবাদ জানালো টাইম এ আসার জন্যে। এরপরে একটু ভূমিকা করে নিলো।

তারপরে বললো আসল কথা। সবাই উৎসুক হয়ে ছিল কি কারণে আজকে এই পারিবারিক মিটিং ডাকা হয়েছে। রুবি বললো দেখো তোমরা সবাই আমার খুব আপনজন। আমি একটা কথা সবাইকে জানিয়ে দিতে চাই আমি আজ যে ডিসিশন নেবো সেটা সবাই মানবে আমি এটাই আশা করছি। যদি কারুর আপত্তি থাকে আমাকে জানাবে আমি তার উপায় বলে দেব।

এরপরে বললো তাহলে আমি জানাই আমার ডিসিশন ? সবাই বললো হ্যাঁ আমরা রেডি। তখন রুবি বললো আমি একটা জিনিস লক্ষ্য করেছি সবার মধ্যে। ব্যাপারটা হচ্ছে আমাদের সবাই কেউ কাউকে পছন্দ করে কিন্তু সেটা লুকিয়ে তার সঙ্গে দেখা করে বা আরো কিছু করে আশা করি তোমরা সবাই বুঝতে পারছো আমি কি বলতে চাইছি।

আমরা সবাই অ্যাডাল্ট তাই কেউ কাউকে আটকাতে পারিনা বা বাধা দিতে পারিনা। তাই আমি এই ডিসিশন নিয়েছি যে যাকে পছন্দ করে সে তার সঙ্গেই ঘর করবে। এবার আমি বলে দিচ্ছি কার সঙ্গে কে থাকবে বা ঘর করবে। এই ডিসিশন নেওয়ার পরে সবাই আইন মেনে কাজ করবে আর কাউকে বাধা দিতে পারবে না। আমার ডিসিশন এই যে আমার বর্তমান ননদ মিমি সে ভালোবাসে আমার বাবাকে তাই বাবা মিমিকে বিয়ে করবে আর মা বাবাকে ডিভোর্স দিয়ে দেবে।

এবার আমার কথা বলি আমি পছন্দ করি আমার বর্তমান শশুর দেবরাজ বা বাপী কে আমি ওর সঙ্গেই বিয়ে করবো আর রবিন আমাকে ডিভোর্স দেবে। আমার মা পছন্দ করে রবিনকে তাই মা রবিনকে বিয়ে করে ঘর করবে। এবার আমার বর্তমান শাশুড়ি পছন্দ করে আমার দাদা রাজকে তাই রাজ্ বিয়ে করবে আমার মা কে। তাহলে এবারে এটা জানাবো এরপরে আমাদের সম্মন্ধ কি হবে।

আমি যেহেতু রবিনকে ডিভোর্স দিয়ে বাপিকে বিয়ে করছি তাই রবিন আমার ছেলে হিসেবে গণ্য হবে। আর মিমি যেহেতু আমার বাবাকে বিয়ে করবে তাই মিমি আমার মা আর বাপির শাশুড়ি হবে। তেমনি আমার শাশুড়ি দাদা রাজকে বিয়ে করবে তাই এরপর থেকে উনি আমার বৌদি আর বাপির ও শালার বৌ বা বৌদি হিসেবে গণ্য হবে।

আমার মা যেহেতু রবিনকে বিয়ে করবে তাই এরপরে আমার মা আমার আর বাপির বৌমা হিসেবে গণ্য হবে। এবার তোমাদের কোনো আপত্তি থাকলে আমাকে জানাও। আমরা সব শুনে বললাম তোমার সব ডিসিশন আমরা সবাই মেনে নিলাম। এবার আমরা কবে থেকে এই সম্মন্ধ করবো সেটা যদি জানিয়ে দাও।

তখন রুবি বললো আমি কালকের মিটিং এ ডেট বলে দেব। এবার রুবি বললো আমি যে কথা বললাম তোমরা সেইসব আজ থেকেই নিজেদের মধ্যে চালু করতে পারো। আমরা খুশি হয়ে রুবিকে ধন্যবাদ দিলাম। এরপরে আমি সবার সামনে রুবির মা কে কাছে টেনে নিলাম আর রুবিকেও দেখলাম আমার বাবাকে নিয়ে বেরিয়ে গেলো।

পরের পর্বে থাকবে সবার সঙ্গে নতুন সম্পর্ক স্থাপনের গল্প তাই সঙ্গে থাকুন আর কমেন্ট করে জানান কেমন লাগছে। …

What did you think of this story??

Comments

Scroll To Top